সীতাকুন্ডে হাজারো কৃষকের চলাচলের সড়ক কেএসআরএমের দখলে

সীতাকুুন্ড (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার বাড়বকুন্ডে রাজা আম্বিয়া ঢালা সড়ক দখলে নিয়ে পাহাড়ে স্থানীয় সবজি চাষীদের যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে দেশের স্বনামধন্য বিশিষ্ট লোহার রড ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড (কেএসআরএম)।

এতে এলাকার প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি কৃষকের উপার্জনের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার সড়কটি দখলে নিয়ে লোহার প্লেট ও পাইপ দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল তুলে দেয় কেএসআরএম। এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় লোকজন জানান, এলাকার সবজি চাষীদের উৎপাদিত সবজি-ফল বাজারে নেওয়ার ঐতিহাসিক পথ রাজা আম্বিয়ার এই সড়ক। ঢাকা চট্টগ্রাম-মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত পাহাড়ের প্রায় ১০ হাজার একর ভূমিতে সবজি ও মৌসুমি ফল চাষই এ এলাকার পাহাড়ি চাষীদের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। সড়কটি বন্ধ করে দেওয়ায় পাহাড়ে কৃষি চাষ করে খেটে খাওয়া মানুষগুলোর উপার্জনের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে।

বাড়বাকুন্ডের জঙ্গল কাটগড় রাজা আম্বিয়ার ঢালা পাহাড়ি বাগান ও কৃষি উৎপাদনকারী ফলদ বাগান মালিক সমিতির সভাপতি মো. জয়নাল আবদীন ভূঁইয়া জানান, তাদের সংগঠনের সদস্য সংখ্যা পাঁচ শতাধিক, আমাদের সদস্য ছাড়াও রাজা আম্বিয়া সড়ক ধরেই প্রতিদিন ২ থেকে ৩ হাজার কৃষক পাহাড়ে যাতায়াত করে। সব মিলিয়ে এক হাজারের বেশি বাগান মালিক রয়েছেন। প্রত্যেক বাগান মালিকের অধীনে ১০ থেকে ২০ জন কৃষি শ্রমিক কাজ করেন।

তিনি বলেন, পাহাড়ে উৎপাদিত ফল ও সবজি বাজারে আনার একমাত্র সড়ক এটি। কিন্তু এলাকার হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা না করে কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে পাহাড়ে কাজ করে খেটে খাওয়া মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়বে। পরিবার নিয়ে সংকটের মুখোমুখি হবে।

জানা গেছে, ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আনোয়ারা জুট মিল নিলামে উঠে। ২০১৫ সালে সকল স¤পত্তিসহ মিলটি কিনে নেয় কেএসআরএম। এরপর থেকে কৃষকদের যাতায়াতের পথ বন্ধের পাঁয়তারা শুরু হয়। গত বছর রাজা আম্বিয়ার ঢালায় রাস্তায় লোহার গেট বসাতে গেলে এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে রাস্তাটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। বিষয়টি জানিয়ে জঙ্গল কাটগড় রাজা আম্বিয়ার ঢালা পাহাড়ি বাগান ও কৃষি উৎপাদনকারী ফলদ বাগান মালিক সমিতি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা, সীতাকুন্ড থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

গত ১৩ জুলাই কেএসআরএম আবারও রাস্তাটি বন্ধ করে গেট নির্মাণের চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর বাধার মুখে তারা চলে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু যে কোন সময় রাস্তাটি দখলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যায়। এতে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় দক্ষিণ মাহমুদাবাদের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বাদি হয়ে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় কেএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান ও তার দুই ভাই সেলিম উদ্দিন ও আবদুল করিমকে বিবাদি করা হয়েছে।

মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ রাজা আম্বিয়া ঢালা সড়ক বন্ধ করায় জনসাধারণ চলাচল করতে পারছে না। অন্যদিকে পাহাড় ও গাছ কেটে পরিবেশ ধ্বংস করছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারায় আনা মামলার আরজির প্রেক্ষিতে তা সরেজমিন তদন্ত করে আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সীতাকুন্ড থানার ওসিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

এছাড়া একই আদালতে ইকবাল হোসেনের করা আরেকটি মামলায় আদালত আজ রোববার শুনানির দিন ধার্য করেছেন। পাশাপাশি শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থাানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। ওই মামলায়ও শাহ জাহান ও তার দুই ভাইকে বিবাদি করা হয়েছে। কিন্তু এর আগেই জনগণের রাস্তাটি দখলে নেয় কেএসআরএম।

সীতাকুন্ড থানার ওসি ইফতেখার হাসান বলেন, আদালতের আদেশের বিষয়টি উভয়পক্ষকে জানিয়েছি। শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন কাজ করছে। এদিকে চলাচলের রাস্তা দখলে নেওয়ায় কেএসআরএম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন বাগান মালিক সমিতির সভাপতি মো. জয়নাল আবদীন ভূঁইয়া।

তবে কেএসআরএম গ্রুপের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.শাহরিয়ার দাবি করেছেন, সড়কটি তাদের কেনা জায়গার উপর। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে দখলে নিয়েছেন।