প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৩:০৯:৩৩

চট্টগ্রামে গ্রাহকের অর্ধশত কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা বসুধা বিল্ডার্স

basuda built pic

চট্টগ্রাম : মহানগরীর কদমতলীতে বসুধা মেন্স সিটি সেন্টারে দোকান বরাদ্দ দেয়ার নামে ব্যবসায়ীদের অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে চট্টগ্রাম অফিস বন্ধ করে বসুধা বিল্ডার্স নামে এক প্রোপারটিস কোম্পানী লাপাত্তা হয়েছে। টাকা হারিয়ে এখন পাগল প্রায় ব্যবসায়ীদের অনেকে।

শুধু তাই নয়, বসুধা বিল্ডার্স দোকানপাট দেখিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি টাকার ঋণও নিয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে শিগগীর আন্দোলনে নামবেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, ২০০৭ সালের শুরু থেকে চট্টগ্রাম রেলওয়ের কদমতলীর মোড়ে রেলওয়ে থেকে ইজারা প্রাপ্ত ৩২০৭ শতাংশ জায়গার উপর দশতলা ভবন মাকের্টের কথা বলে বসুধা বিল্ডার্স প্রায় ৮০০ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫-১০ লাখ টাকা করে প্রায় অর্ধশত কোাটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

উক্ত বাণিজ্যিক ভবনের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০০৯ সালের মধ্যে। কিন্তু এর মধ্যে দোকান বরাদ্দ পাওয়ার আশায় ব্যবসায়ীরা চুক্তি মোতাবেক সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করার পরও দীর্ঘ সময়ে ওই ভবনের পাঁচতলা ভবনের কাজ সম্পূর্ণ না করে কাউকে কোন দোকান বরাদ্দ না দিয়ে গা ঢাকা দেন। দীর্ঘ ১১দিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক ও কর্মচারীরা লাপাত্তা।

বসুধা রেলওয়ে মেন্স সিটি সেন্টার দোকান মালিক সমিতি সভাপতি রনজিৎ বাবু জানান, আমার নিজের নামে একটা দোকান বরাদ্দ দেই ২০০৭ সালে শুরুতেই। আমি তখন বিদেশে ছিলাম। আমাকে বলা হয়েছিল ২০০৯ সালের দোকান বুঝিয়ে দেব। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছর পরও এখনও সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে দোকান বরাদ্দ দিতে পারেনি বসুধা বিল্ডার্স। বারবার কালক্ষেপন করে চলছে। বাণিজ্যিক ভবনের কাজ অর্ধেক করে লাপাত্তা হয়ে যায় ওই কোম্পানী।

তিনি আরো জানান, আমাদের দোকান মালিক সমিতির প্রায় ৮০০ ব্যবসায়ী থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর পরও দোকান বুঝিয়ে দিতে পারেনি তারা। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে নির্মাণ কাজও বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা হতাশ দিন কাটছে। শিগগীর সমিতির লোকজন আইনের আশ্রয় ও আন্দোলনে যাবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানার জন্য বসুধা বিল্ডার্সের জেনারেল ম্যানেজার মুজাহিদুল হক কনককে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। অথচ এরমধ্যে ৫টি কল ওয়েটিং ছিল।