প্রকাশ: ৫ জুলাই ২০১৮, ২২:৫৩:১১

ক্যান্সার আক্রান্ত মাকে বাচাতে দুই সন্তানের আকুতি!

চট্টগ্রাম :
হাসিনা আক্তার, বয়স ৩৫, বাম চোখের অস্বাভাবিক ফোলার কারণে এক চোখ প্রায় অন্ধ। ঠিক মতো কথা বলতে পারছেন না। নাক দিয়ে নি:শ্বাস নিতেও কষ্ট পাচ্ছেন। খাবারও খেতে হয় মাথাটা উঁচিয়ে।

এভাবে দিনযাপন করছেন চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানার নেজাম মার্কেট আমির আলী টেন্ডলের বাড়ীর মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের মেয়ে হাসিনা আক্তার। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. আলী আসগর চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ডা. আলী আসগর চৌধুরী জানান, হাসিনা আক্তার গত দুই বছর ধরে আমার অধীনে চিকিৎসাধীন। যখনই আমার কাছে আসছেন চিকিৎসা নিতে তখন অনেক দেরি করে ফেলছেন। তাই ঢাকায় জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট হাসপাতালের চিকিৎসার নেওয়ার জন্য পরামর্শ প্রদান করি। কিন্তু চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটানোর ক্ষমতা তার নেই।

পারিবারিক সুত্র জানায়, গত ৫ বছর আগে চোখের মধ্যে একটা ছোট ফোড়া হয় তার। অর্থাভাব ও অবহেলা সর্বোপরি সচেতনতার অভাবে এই ফোড়া দিন দিন বড় হয়ে মরণ ব্যাধি ক্যান্সারের রুপ নেয়। ২০০৭ সালে তার স্বামী রিকসাচালক এনামুল হকও অর্থাভাবে দীর্ঘদিন লিভার ক্যান্সারে ভোগে মারা যায়।

স্বামী হারা দুই সন্তানের মা হাসিনা আক্তার দিন পার করছেন নানা সংকটে। নিকট আত্নীয় বলতে আছেন শুধু এক দেবর। যার সাহায্যে চলছে এক ছেলে ও এক মেয়ের স্কুলের পড়ালেখা। সম্পদ বলতে কিছুই নেই। থাকেন প্রতিবেশীর বাড়িতে।

প্রতিবেশী আজিজুল হক জানান, ছেলে-মেয়ের পড়াশুনার খরচ দিলেও হাসিনা আক্তারের চিকিৎসার খরচ চালানোর সামর্থ তার দেবরের নেই। যার কারণে ৫বছর ধরে কোন রকম চিকিৎসা নিয়ে বেচে আছেন। সঠিক চিকিৎসা নিতে প্রায় ৫-৬ লাখ টাকা প্রয়োজন।

হাসিনা আক্তার বলেন, দেবর দিদারুল আলম প্রবাসী। তার পক্ষে আমার অপারেশনের ব্যয়ভার বহন করা মোটেই সম্ভব নয়। দেবর যা আয় করেন তা দিয়ে কোন মতে নিজের সংসার চলার পাশাপাশি ভাইয়ের ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার খরচ দিচ্ছেন। এতে টানাটানির সংসার তারও।

দিদারুল আলম জানান, আমার যা আয় হয় তা দিয়ে নিজের সংসার খরচ মেটোতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার উপর ভাবির দুই সন্তানের দেখভাল করার দায়িত্ব। ভাবির চিকিৎসার ব্যাপারে ডাক্তার বলছেন- চিকিৎসার ব্যয় খরচ হবে প্রায় ৫-৬ লাখ। এতো টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে কোন মতে সম্ভব না। তাই সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ আমার ভাবির জীবন বাচাতে এগিয়ে আসার। ভাবি সুস্থ হলে মাকে ফিরে পাবে পিতৃহারা দুই সন্তান।

হাসিনা আক্তারের ১৪ বয়সী মেয়ে মেসকাতুন মনতাজ মমু ও ৮ বছর বয়সী ছেলে রিহানের আকুতি শুধুই আমার মাকে বাচান। আমার বাবাও একই রোগে মারা গেছেন। আমরা দুইজন পিতৃহারা। আমরা সহযোগীতার জন্য দেশবাসীর কাছে ঋণী হয়ে থাকব।