সীতাকুণ্ড পাহাড় কেটে বাড়ী-ঘর ও শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ!

Feb

সীতাকুণ্ড :: চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে পাহাড়জুড়ে চলছে পাহাড় কাটার ধুম। বাড়বকুন্ড, কমিরা, সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী, বাংলা বাজার, বায়েজিদ রোড, জঙ্গলে লতিফপুর, জঙ্গলে সলিমপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্কেবেটর ও বোল্ডোজারে ছোট-বড় পাহাড়ি টিলা কেটে সমতলে পরিনত হওয়ায় চরম হুমকীতে পড়েছে বনভূমি ও জীববৈচিত্র।

স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় পাহাড় কাটার মিশন চলতে থকলেও দেখার কেউ নেই। ফলে এক শ্রেণীর ভূমিদস্যু পাহাড় খেকোরা পাহাড় কেটে সমতল করে মাটি ও বনভূমি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের বনভূমি সংলগ্ন পাহাড়টি কেটে তৈরী করা হচ্ছে সমতল ভুমিতে। দিন-রাত স্কেবেটরে পাহাড় কাটার কাজ চলতে থাকায় বিলীন হতে চলছে সরকারী বনভূমির সংরক্ষিত বনাঞ্চল।

পরিবেশ ও বন আইনের তোয়াক্কা না করে পাহাড়টি সমতলে পরিনত হতে চললেও দেখছে না প্রশাসন। ফলে প্রভাবশালী মহলের ছাত্র ছায়ায় চলছে পাহাড় কাটার মিশন চলায় কোনো বাঁধা প্রদান করেও কোনো কাজে আসছে না বলে জানান বনবিভাগ।

কুমিরা ও বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন,‘ যে পাহাড়টি কাটা হচ্ছে তা ব্যাক্তি মালিকানাধীন পাহাড়। এ ছাড়া স্থানীয় লোকজন পাহাড় কাটার সাথে জড়িত থাকায় বৃদ্ধ আঙুলী দেখানো হচ্ছে আইনকে।

এদিকে, পাহাড় কেটে টিলা সমূহকে সমতলে পরিনত হওয়ায় হুমকীতে পড়েছে বনভূমি ও জীববৈচিত্র। এছাড়া একের পর এক পাহাড় বিলিন হতে চলায় কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকারত্বের ঘানি টানছে পাহাড় নির্ভর জনসাধারণ।

স্থানীয় লোকজন বলেন, ‘পাহাড়ের বিশাল এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে পাহাড় কাটার মিশন। এসব পাহাড়ের কাঠ ও সবজি চাষ করে চলত পরিবারের ভরন পোষন। কিন্তুু হঠাৎ করে টিলাগুলো কেটে ফেলায় দৈনন্দিন কাজ বন্ধ হয়ে জীবন নেমে এসছে বেকারত্বর অভিশাপ।’ আবার যেসব পাহাড়ের টিলা কেটে সাবাড় করা হচ্ছে তার সাথে ব্যক্তিগত জায়গাও প্রভাবশালীরা দখলে নিচ্ছে বলে আশপাশের জায়গার মালিকদের অভিযোগ।

মান্দারীটোলা গ্রামের এইচ.এম শাহদাত হোসেন বলেন,‘ আমার পৈত্রিক পাহাড়টি দখলে নিয়ে কেটে ফেলছে এক শিল্পপতি। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশ বন্ধব “বেলা” ও সীতাকুন্ড ইউএনও দপ্তরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবেশ অধিদপ্তর ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে কাজ বন্ধ করে পাহাড় কাটা। এ সময় পাহাড় না কাটার উপর একটি নিষেধাজ্ঞা পত্র দারোয়ান প্রদান করে পরিবশে অধিদপ্তরের লোকজন।

কিন্তুু পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে দিনে বদলে রাতে পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।’ সে সাথে পাহাড়ের মালিকরা স্থায়ীভাবে পাহাড় কাটা বন্ধের দাবী জানান পরিবেশসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে।

অন্যদিকে বাংলাবাজার বায়েজিদ রোডে ব্যাপকহারে পাহাড় নিধন করছে প্রভাবশলীরা। এ কাজের সাথে সিডিএ সহ বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তারাদের মদদে পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। একইভাবে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বাস্তুহারা নামে কয়েকটি সংগঠন সরকারী প্লট বানিজ্য চালাতে পাহাড় কাটছে দীর্ঘদিন ধরে। এসব অপকর্মের সাথে জড়িতদের স্থানীয় মেম্বার, বস্তুহারা সংগঠনের নেতা, একাধিক সন্ত্রাসী জড়িত রয়েছে।

সূত্রে মতে, সল্প আয়ের লোকজন বিভিন্ন জেলা থেকে বসবাস করতে পাহাড়ি এ এলাকায়। আর এসব পাহাড়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে বাস্তুহারা নেতাদের মাধ্যমে ২ বা ৪ শতক সমতল পাহাড় দখলে দিয়ে এককালীন বা মাসিক কিস্তিতে। প্রতি শতক এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা দামে নির্ধারন করে নেতারা। এভাবে পাহাড় কেটে সাবাড় করে প্রভাবশালী মহল ব্যবসার উদ্দেশ্যে পাহাড় কেটে চললেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম ভূইয়া এ প্রসঙ্গে বলেন,‘ অবৈধভাবে পাহাড় কাটার বিষয়ে প্রশাসন সব সময় সজাগ রয়েছে, এরপরও কোনো ব্যাক্তি-প্রতিষ্ঠান অনুমোদনহীন পাহাড় কাটার খবর পাওয়া গেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহন করা বলে জানান তিনি।

সিটিজিসান.কম/রবি