দুর্গাপূজায় নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে যুবক খুনের নেপথ্যে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | সিটিজিসান.কম

চট্টগ্রাম: পাড়ার দুর্গাপূজার উদযাপন কমিটিতে নেতৃত্ব দ্বন্দ্বের জেরে খুন হয়েছেন বিশু কুমার ধর (২৮) নামের এক যুবকের। একই পাড়ার সংগঠক শিমুল ধর বাবু (৩০) নামে এক যুবক তাকে ছুরিকাঘাত করেছে। বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) রাতে হত্যাকাণ্ডের পর শিমুল ধর বাবুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে শিমুল এই স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন- মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মহানগরের পাহাড়তলী থানাধীন সাগরিকা শিববাড়ি মোড়ে রাস্তায় বিশু কুমার ধরকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়। বিশু ছিলেন পাহাড়তলী থানা পূজা উদযাপন পরিষদের অর্থ সম্পাদক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ জানান, নির্জন এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি দেখে ফেলেন স্থানীয় ১২ বছরের এক কিশোরী। তার দেওয়া ঘটনার বিবরণ অনুসারে রাতেই অভিযানে নামে পুলিশ। এর মধ্যে শিমুল পাহাড়তলী থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বিশু’র বন্ধু রাজীব কুমার ধরকে ফোন করে জানায়, বিশু ও শিমুলকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করেছিল। কোনোভাবে পালিয়ে শিমুল প্রাণরক্ষা করেছে। বিশুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।

ওসি বলেন, ‘রাজীব আমাদের এই তথ্য দেওয়ার পর শিমুলকেই আমাদের সন্দেহ হয়। এর মধ্যে ওই কিশোরীও আমাদের জানায় যে, একজন যুবক ছুরিকাঘাত করে বিশুকে খুন করতে সে দেখেছে। তার বর্ণনার সঙ্গে শিমুলের চেহারা-শরীরের গঠন মিলে যায়। শিমুলকে আমরা কৌশলে আটক করি। পরে ওই কিশোরীকে এনে শিমুলকে শনাক্ত করা হয়।’

শিমুল ধর নগরীর পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী বণিকপাড়ার মৃত গোপাল কৃঞ্চ ধরের ছেলে। পাহাড়তলী বাজারে ‍মুক্তা জুয়েলার্স নামে তার একটি স্বর্ণের দোকান আছে।

থানায় নেওয়ার সময় শিমুল ধর জানান, দক্ষিণ কাট্টলী বণিকপাড়া পূজা কমিটির সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন রাজীব কুমার ধর। তার বন্ধু বিশু তাকে সভাপতি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন। গত ঈদুল আযহার পর ওই পূজা কমিটি গঠনের সভা হয়। সেখানে শিমুলের আপত্তির মুখে রাজীবকে সভাপতি করা হয়নি। সভাপতি হন বিটু ধর। এতে রাজীব ও বিশু শিমুলের উপর ক্ষুব্ধ হন।

এরপর পাহাড়তলী থানা পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন দুজন। একজন রাজীব কুমার ধর ও শিবু শীল। যথারীতি রাজীবের পক্ষে ছিলেন বিশু। আর শিবু’র পক্ষে ছিলেন শিমুল। সেখানে রাজীব সাধারণ সম্পাদক হন।

শিমুলের দাবি- মূলত বণিকপাড়া পূজা কমিটি নিয়েই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। বিশু সবসময় শিমুলকে এসব বিষয় নিয়ে বিরক্ত করত। কয়েকবার তাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়েছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজার আগে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত। কারণ ঘটনাটিকে জঙ্গি হামলা বলে মনে করার সুযোগ ছিল। তবে আমরা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারায় এই পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ নেই। এটি পূজার কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’

সিএস/সিএম

Leave a Reply