দলের সিনিয়র নেতাদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার: ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

পুলিশি হামলার অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের যারা নেতৃস্থানীয় যারা দল পরিচালনা করেন তাদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমরা আজকের এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ১০ তারিখে শনিবার ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে ঘটনাগুলো ঘটল। এতটুকু সৌজন্যবোধ তারা দেখায়নি যে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সেখানে ছিলেন! তাদের সামনেই, আমাদের কর্মসূচি তারা শেষ করতে দেয়নি, সেই ভাবেই তারা আক্রমণ করেছে। আজকে এটা হামলা। আমরা পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ধিক্কার জানাচ্ছি।’

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্রদলের এক নেতাকে আটক করতে গিয়ে বিএনপির কর্মসূচি শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে পণ্ড করে দেয় পুলিশ। বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়ার কর্মসূচি দুপুর ১২টায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১১টা ৫০ মিনিটে পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযানে তা পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি এস এম মিজানুর রহমান রাজসহ তিন নেতাকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে প্রক্রিয়ায় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কোনো স্বাধীন দেশে এইভাবে গ্রেপ্তার হতে দেখিনি। আমরা এটাকে তুলনা করতে পারি হিটলারের গেস্টাপো বাহিনীর সঙ্গে। অথবা অন্যান্য ডিকটেটরেরা যেভাবে কাজ করেছে গণতান্ত্রিক কর্মীদের ওপর আক্রমণ অত্যাচার করেছে তাদের সঙ্গে।

ফখরুল বলেন, দেশনেত্রীকে কারাগারে নেওয়ার পর আমরা যতগুলো কর্মসূচি দিয়েছি প্রত্যেকটি কর্মসূচি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। এতেই বোঝা যায় সরকারের গাত্রদাহ হচ্ছে। যে কারণে আজকে তারা উসকানি দিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে অন্যায়ভাবে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, রুহুল কবির রিজভী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।