অবশেষে ঘরে ফিরছেন মনজুর আলম!

মনজুর আলম মনজু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | সিটিজিসান.কম

চট্টগ্রাম: আর মাত্র কয়েকমাস পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরমধ্যে সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও বেশ কয়েকজনের নাম গোপনে সবুজ সংকেট দিয়েছে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে পুরাতন ও নতুনদের বেশ প্রচারণা সরব চট্টগ্রামের অলিতে-গলিতে। কেউ ফেসবুকে নৃত্য নতুন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সবার একটা দাবি নেত্রী যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে দল থেকে নির্বাচন করবে।

এদিকে চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী ও হালিশহর) আসন থেকে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন চট্টগ্রাম সিটির সাবেক মেয়র মনজুর আলম মনজু। বিগত কয়েক মাস ধরে মহানগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই খবর চাওর চলছে। অনেকে মঞ্জুরুল আলম মনজু নিয়ে নানান আলোচনা ও সমালোচনা চলছে আওয়ামী লীগের ভেতরে। কেউ কেউ এটা ভাল দৃষ্টিতে নিচ্ছেন আবার কেউ কেউ এটাকে গোপন ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে বলে জানিয়েছেন দলটি একাধিক নেতৃবৃন্দ।

জানা যায়, মনজুর আলমের বাবা আবদুল হাকিম কন্ট্রাক্টর ছিলেন পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি নগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্যও ছিলেন। মনজুর আলম আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসাবে ১৯৯৪, ২০০০ ও ২০০৫ সালে পরপর তিনবার বিপুল ভোটে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হন। প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালে বিভিন্ন সময়ে পালন করেছেন ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে দল থেকে মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন চান মনজু। তখন মহিউদ্দিন চৌধুরীকেই দলীয় প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। এসময় বিএনপির প্রার্থী হয়ে মনজুর আলম মেয়র প্রার্থী হন।

ওই নির্বাচনে প্রায় দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে গুরু মহিউদ্দীন চৌধুরীকে পরাজিত করেন মেয়র নির্বাচিত হন শিষ্য মনজুর আলম। নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করেন মনজুর আলম। কিছুদিন পর পেয়ে যান চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ। মেয়র হিসেবে ভালো মানুষ পরিচিতি পেলেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় না থাকায় অসন্তোষ ছিল বিএনপিতে। তবে পাঁচ বছরে দলে আর্থিক সহায়তা দিয়ে গেছেন মনজুর আলম। এরপরও তাকে বিএনপি নেতাদের নানা ধরনের অভিযোগ-অনুযোগ শুনতে হয়েছে নিয়মিত। বিএনপি নেতাদের নেতিবাচক মনোভাবে মনজুর আলমের কাছে রাজনীতি বিরক্তিকর হয়ে উঠে।

এরপরও ২০১৫ সালে বিএনপি থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে নির্বাচনে অংশ নেন মনজু। কিন্তু নির্বাচনে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাকে এবং তার পরিবারকে। চট্টগ্রাম বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের খেসারত দিতে হয়েছে আর্থিক ও মানসিকভাবে। ফলে তখনই বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে খুব কৌশলে নির্বাচনের দিন সকাল ১১টার দিকে নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণাও দেন মনজুর আলম।

এদিকে কয়েক বছর ধরে ১৫ অগাস্ট ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের’ উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।

ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছে এমনটা মনে করছেন অনেকে। তবে আওয়ামী লীগের কোনো পদবীতে না থাকলেও আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ সংসদীয় আসন থেকে মনোনয়ন প্রার্থীর তালিকায় নাম রয়েছে তার। অনেকে মনে করছেন তিনি দলীয় পদে না থাকলেও দলীয় মনোনয়নে এবার আওয়ামী লীগ থেকে এমপি হবেন। বিএনপির কোনো দলীয় পদে না থেকে মেয়র যেভাবে হয়েছেন ঠিক তেমনি সজ্জন মানুষ হিসাবে পরিচিত মনজুকে নৌকার টিকেট নিয়ে এমপি হবেন এমন ধারণা অনেকের।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চসিক’র সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম মনজু বলেন, আমি তো সবসময় আওয়ামী লীগের ছিলাম। বিএনপির টিকিটে মেয়র হলেও মেয়র থাকাকালে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছি, তা তো সবাই জানে।
আওয়ামী লীগে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, হলেও হতে পারে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। আওয়ামী লীগে ফিরলে তখন অবশ্যই জানবেন।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. আফছারুল আমিন বলেন, কে কখন আওয়ামী লীগে যোগ দিবেন বা দিচ্ছেন তা আমি জানতে পারবো না, এটা কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়। তবে দলে মত পরিবর্তনকারী কাউকে দলে নিবেন, কী নিবেন না তা সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর।

সিএস/সিএম

Leave a Reply