প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০১৮, ১১:২৫:১৬

মাজারে বাতাসে বইছে গাঁজার গন্ধ!

কুষ্টিয়া : আজ মঙ্গলবার থেকে ৩ দিন ব্যাপী শুরু হচ্ছে আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ, মুশকিল কোশা, গঞ্জে সাফা, ছাইফুল আদব, বে-নিয়াজ হায়াতে কলন্দর, শহীদ সূফী মাওলানা হযরত বাবা সোলাইমান শাহ্ চিশতী (রঃ)-এর ৪৮ তম বার্ষিক ওরশ মোবারক।

দেশ বিদেশের লাখ লাখ ভক্ত ওরশ মোবারকে অংশগ্রহণ করার লক্ষে ইতোমধ্যেই কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের গোলাপনগর গ্রামের সোলাইমান শাহ (রঃ)’র মাজার শরীফে আসতে শুরু করেছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও লাখো ভক্ত আশেকানদের মিলন মেলায় পরিণত হবে বলে ধারন করা হচ্ছে।

কিন্তু ওরশ মোবারক এর শুরুর আগেই আশপাশে পাগল ও নেশা খোরদের আস্তানা বসেছে। চলছে অশ্লীলতা, অবাধে মাদক বিক্রি ও সেবন। ওরশ উপলক্ষে মাদক বিক্রি, জায়গা ভাড়া ও মাজারের দানের নামে চলছে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য।

এ বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসনের রয়েছে নীরবতা। হযরত বাবা সোলাইমান শাহ্ দরবার কমিটি’র সভাপতি স্বয়ং ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সাধারণ সম্পাদক ভেড়ামারা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার। তারা যেন দেখেও দেখছেন না।

এব্যাপারে ভেড়ামারা উপজেলা সমাজসেবা অফিসার ও দরবার কমিটির সেক্রেটারী মো. আবু নাসির এর মুখোমুখি হলে, তিনি মাদক বিক্রি’র সমস্ত দায়ভার ওরশ কমিটি’র উপরে চাপিয়ে দিয়ে নিজের দায় এড়িয়ে যান। অথচ এই মাদক নিয়ন্ত্রনের জন্যই দরবার কমিটি’র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পদাধিকার বলে উক্ত দুই কর্মকর্তাকে।

মো. আবু নাসির বলেন, মাদকের বিষয় গুলো দেখার দায়িত্ব আমার না, এব্যাপারে কথা বলতে হলে আপনি মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সাথে কথা বলেন। তারপরও আপনি যখন এসেছেন আমি এই বিষয় গুলো ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও ভেড়ামারা থানা’র এস.আই রিফাজ কে জানাবো, তাহারা নিশ্চয় এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

কুষ্টিয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমানের সাথে এই বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমি এর আগেও গোলাপনগর মাজারে অনেক মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছি। আমাদের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমি অবশ্যই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি বছরের ন্যায় এখানে ওরশ শুরুর আগেই চলছে মাদক বিক্রি, সেবন ও অশ্লীলতা। ওরশ শুরুর আগেই নেশা খোর মাজারের চারপাশে প্রায় ৫ শতাধিক আস্তানা গেরে বসেছে।

জানা যায়, সকল প্রকার মাদকদ্রব্যই পাওয়া যায় এখানে। নেশাখোরদের দেখলেই মনে হয়, মাজার প্রাঙ্গণ যেন নেশার স্বর্গরাজ্য ও নিরাপদ স্থান। দলে দলে আস্তানা বেঁধে সেবন করছে মাদকদ্রব্য। মাজার প্রাঙ্গণের বাতাসে বইছে গাঁজার গন্ধ। এই ওরশকে গঞ্জিকা সেবীদের মেলা হিসেবে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। পুলিশ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে গেলেও মনে হয়েছে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নিরুৎসাহিত।

এ ব্যাপারে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও দরবার কমিটির সভাপতি সোহেল মারুফ মুঠোফোনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১২ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাক হানাদারদের বুলেটে শহীদ হন হযরত সোলাইমান শাহ্ চিশতী (রঃ) সহ তাঁর ৬ জন সহচর। ভেড়ামারার পদ্মা নদীর পশ্চিম তীরে সবুজ গাছপালায় ঘেরা চরগোলাপনগর গ্রামের এক মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুমিয়ে আছেন এই আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ।

এরপর থেকেই সেখানে গড়ে ওঠে মাজার শরীফ। সারা দেশের এবং বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত আশেকান প্রতি বছর চৈত্র মাসের ২৭, ২৮ ও ২৯ তারিখে তিন দিন দরবার শরীফে সমবেত হন। ওরশ কে ঘিরে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও লাখো ভক্ত আশেকানদের মিলন মেলায় পরিণত হবে গোলাপনগর দরবার শরীফ।

ইতোমধ্যে মাজার এলাকায় দেশ বিদেশ থেকে কয়েক হাজার ভক্ত আশেকান মাজার শরিফে সমবেত হয়েছে। ওরশ মোবারককে ঘিরে মাজার এলাকায় ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে শতশত ষ্টল ও রকমারী দোকান। ভক্ত আশেকান ছাড়াও দর্শনাথীদের ভীড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে মাজার এলাকা। সুত্র: সময়ের কণ্ঠস্বর