শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা দিচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো

অনলাইন ডেস্ক : সরকার বিনামূল্যে শিশুদের হাতে নতুন বই তুলে দিলেও অভিভাবকদের অতিরিক্ত বই কিনতে বাধ্য করছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকলেও তা অমান্য করে শিশুদের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা। তবে আইন অমান্যকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষা কর্মকর্তা।

বছরের প্রথম দিন বিনামূল্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের হাতে সরকার নতুন বই তুলে দিলেও বাড়তি বই কিনতে বাধ্য হচ্ছে অভিভাবকদের। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্ধারিত বই ছাড়াও অভিভাবকদের হাতে বাড়তি বইয়ের তালিকা তুলে দিয়েছে বেসরকারি স্কুলগুলো। ফলে বাধ্য হয়ে শহরের বইয়ের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন অভিভাবকরা।

স্কুলের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘আমি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। আমার বোর্ড বই ছয়টি। ড্রয়িং বইসহ আরও পাঁচটি। সব মিলিয়ে আমার ব্যাগের ওজন ছয় থেকে সাত কেজি।’

অভিভাবকরা জানান, ‘বিদ্যালয়ে কিছু বইয়ে লিস্ট দিয়েছে, যেগুলো নীলক্ষেতে বিক্রি হয় ২০-২৫ টাকা। আর এখানে বিক্রি হচ্ছে ২০০-৩০০ টাকা।’

আরেক অভিভাবক জানান, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ বইয়ের দোকান থেকে সেট প্রতি একশ টাকা কমিশন নিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বইয়ের লিস্ট দিয়েছে।’

বই বিক্রেতারা বলছেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর প্রকাশনিগুলো যোগসাজস করে পাঠ্যসূচিতে অতিরিক্ত এসব বই যুক্ত করছে। আর সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই শিক্ষক।

গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বাচ্চাদের উপর বাড়তি বইয়ে বোঝা যদিও সরকার এইটা নিষিদ্ধ করেছে। তবে এর উপর নজরাদারি অব্যাহত রাখলে এটা বন্ধ হবে।’

শিশুদের বইয়ের বোঝা হালকা করতে অতিরিক্ত বই না দেয়ার জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশের পাশাপাশি পরিপত্র জারি করে শিক্ষা অধিদপ্তর। সরকারী আদেশ অমান্য করে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলেন পৌর মেয়র ও শিক্ষা কর্মকর্তা।

গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবির মিলন বলেন, ‘সরকারি নীতি বাইরে কোনো কিন্ডারগার্ডেন বা কোন প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত বইয়ের লিস্ট দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম মন্ডল বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শ করে স্ট্যান্ড ফোর্স গঠন করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গাইবান্ধা জেলায় সরকারিভাবে প্রাথমিকে ২৩ লাখ ও মাধ্যমিক স্কুলের শিশুদের হাতে ৪৪ লাখ বই তুলে দেয়া। অন্যদিকে বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বা তেমন কোন তথ্য নেই শিক্ষা বিভাগের কাছে।