ভূমিকম্পে অনুভূত হলে করণীয়

অনলাইন ডেস্ক, সিটিজিসান :
ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি প্রতিরোধ করার কোনো উপায় নেই। অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোদের সঙ্গে ভূমিকম্পের পার্থক্য হচ্ছে, অন্যান্য দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়া যায় কিন্তু ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে যথাযথ সময়ে বা ভূমিকম্প আরম্ভ হওয়ার আগেই কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায় না।

বিদেশে পূর্বাভাসের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তারাও কিন্তু সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ড বা ৩০ সেকেন্ড আগে একটা পূর্বাভাস পায়। তখন আমাদের মতো দেশে আসলে কিছুই করার থাকে না।

উন্নত দেশগুলো অনেক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা ভূমিকম্পের পূর্বপ্রস্তুতি নিতে পারে। সম্ভাব্য যেসব ক্ষতি হতে পারে তার থেকে নিরাপদ থাকতে পারে। তারা সর্বোচ্চ ক্ষতি থেকে নিজেদের সুরক্ষা দিতে পারে। যেমন দশ সেকেন্ডের মধ্যে তারা ট্রেন থামিয়ে দিতে পারে। যেখানে ট্রেনের গতি আছে ঘণ্টায় প্রায় তিনশ কিলোমিটার। যেটা জাপানিজ বুলেট ট্রেন।

আমাদের দেশে এত গতি সম্পন্ন ট্রেন নেই। কিন্তু ভূমিকম্প হওয়ার আগে পূর্বাভাস পাওয়াটা খুব জরুরি আমাদের জন্যও। বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছিল ১৮৯৭ সালে। তারপর এ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্প বাংলাদেশে আসেনি। ভূমিকম্পের যে প্রকারভেদ বা বৈশিষ্ট্য আছে তার মধ্যে একটা হচ্ছেÑ বড় ভূমিকম্প একশ বছর পর পর সংঘটিত হয় বা ফিরে আসে।

প্রায় একশ বছর হয়ে গেছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে নিকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্প আসতে পারে। পৃথিবীতে যতগুলো জনবহুল শহর আছে ঢাকা তার মধ্যে অন্যতম। এখানে খুব কম সংখ্যক এরিয়ার মধ্যে অধিক লোক বসবাস করে।

এছাড়া ঢাকা শহরের ভবনগুলোতে খুবই নিম্নমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড- বিএনবিসির যে নীতিমালা আছে তার কোনোটিই ঠিকমতো অনুসরণ করা হয় না। বড় ধরনের ভূমিকম্প যদি সংঘটিত হয় তাহলে ক্ষতি খুবই ভয়াবহ হবে। এটা যেহেতু প্রতিরোধ করতে পারব না সেহেতু ক্ষতির হাত হতে সর্বোচ্চভাবে আমরা যেন নিরাপদ হতে পারি। ক্ষয়ক্ষতি কম হয় সেটার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা আমাদের খুব জরুরি।

ভূমিকম্প কখনো মানুষ হত্যা করে না। দুর্বল স্থাপনার কারণে মানুষ মারা যায়। বিল্ডিং ধসে চাপা পড়ে মানুষ মারা যায়। আমরা যদি বিল্ডিংগুলো শক্তিশালী করতে পারি, তাহলে জীবনহানি অনেকাংশে রোধ করতে পারব। এক্ষেত্রে যে সব ভবন বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে নির্মাণ করা হয়নি সেগুলোকে আমরা রেট্রোফিট করতে পারি। রেট্রোফিট টেকনোলজিটা হচ্ছে পুরনো বিল্ডিংকে শক্তিশালী করার একটা পদ্ধতি। যদিও এটা বাংলাদেশে খুব একটা প্রচলিত নয়। এটা অনেক কাজের সমন্বয়ে করা হয়। বিল্ডিংয়ের যে আলাদা উপাদান আছে যেমন বিম, কলাম, ছাদ, ফাউন্ডেশন। এগুলো আলাদাভাবে শক্তিশালী করতে পারি। কলামকে জ্যাকেটিং করতে পারি। বিম জ্যাকেটিং করতে পারি। ছাদ ফুটিং করতে পারি। এছাড়া আরও অনেক ডিভাইস আছে। সেগুলো ব্যবহার করতে পারি। ড্যাম্পার রয়েছে। ড্যাম্পার হচ্ছে একটি ডিভাইজ। যেটা অনেকটা ব্রিজের বিয়ারিংয়ের মতো। এটা ঝাঁকি আসলে ঝাঁকুনিকে কমিয়ে দেয়। তখন বিল্ডিং টিকে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

যখন মাটি কাঁপে সেই সঙ্গে সঙ্গে বিল্ডিংও কাঁপে। বিল্ডিংয়ের ভেতর যদি ড্যাম্পারিং থাকে তাহলে ঝাঁকি অনেক কমে যাবে। এটি হচ্ছে বর্তমানে যে ভবন হচ্ছে সেগুলো ভূমিকম্প সহনীয় করার পদ্ধতি। আর নতুন যে বিল্ডিং হবে সেগুলো অবশ্যই বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিংয়ের যে কোড রয়েছে সেটি অনুসরণ করে তৈরি করতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশের সব মানুষকে সচেতন করতে হবে।

ভূমিকম্প হলে করণীয় কি সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। যারা ভবনে বসবাস করে তাদের এসব বিষয় জানা জরুরি। এটা নিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বা মহড়া করতে হবে। মগড্রিল বলা হয় যেটাকে। ভারতে, জাপানে করা হয়। পৃথিবীর উন্নত যেসব দেশে ভূমিকম্প হয় সেখানে করা হয়। বছরে একটা বা দুইটা দিন। স্কুলে বা সরকারি সব প্রতিষ্ঠানে। প্রতিটি জেলায় একটা নির্দিষ্ট সময়ে সচেতনতামূলক মগড্রিলে অংশগ্রহণ করবে। মগড্রিল হচ্ছে এক প্রকার দুর্যোগ বিষয়ক মহড়া। এক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকম্প সক্ষমতা বাড়বে। সুত্র : ঢাকাটাইমস