রাঙ্গুনিয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসী কানা আলতাফের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রাম ব্যূরো : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কুখ্যাত সন্ত্রাসী কানা আলতাফের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পরিবারের লোকজন। আজ সোমবার (১৩ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের কাটাখালী এলাকার ঝোপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ মোহাম্মদ এহসানুল কাদের বলেন, সোমবার সকালে নিহতের ভাইয়েরা গুলিবিদ্ধ লাশটি নিজেরাই উদ্ধার করে বাড়ীতে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে দুপুরের দিকে বাড়ী থেকে লাশটি উদ্ধার করে আমরা থানায় নিয়ে এসে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করি। পরে বিকেলের দিকে ময়নাতদন্তের জন্য আলতাফ হোসেন ওরফে সন্ত্রাসী কানা আলতাফের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।

ওসি জানান, সন্ত্রাসী কানা আলতাফের শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। আলতাফ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। সে এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া থানায় ১১টি মামলা রয়েছে। নিহত আলতাফ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নের পাঁচবাড়ি এলাকার সাবেক মেম্বার আব্দুল মোতালেবের পুত্র। তবে আলতাফকে কারা এবং কেন গুলি করে মেরেছে তা এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানান থানার ওসি।

নিহতের ভাইয়েরা জানান, কানা আলতাফকে রবিবার দিনগত রাতে তার প্রতিপক্ষরা মেরে ফেলে দিয়েছে। তার আগে থেকে সে নিখোঁজ ছিল। সোমবার সকাল থেকে তাকে খোঁজাখুঁজি করার পর চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের কাটাখালী এলাকায় একটি ঝোপের মধ্যে লাশ পাওয়া যায়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, আলতাফ হোসেন দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আসছিল। ডাকাতি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে চোখ কানা হওয়ার পর থেকে সে সন্ত্রাসী কানা আলতাফ হিসেবে পরিচিতি পায়।

লোকজন আরও জানায়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দলটির কতিপয় শীর্ষ নেতা তাকে মরিয়ম নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি পদে দায়িত্ব দেয়। সেই থেকে আওয়ামী লীগ নেতার ব্যানারে সে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা শুরু করে। এ ব্যবসায় তার রয়েছে বিশাল বাহিনী। যাদের প্রত্যেকে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হিসিবে পরিচিত।

এদের মধ্যে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন অন্যতম। যাকে গত ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে মরিময়নগর চৌমুহনীর একটি দোকানের পেছন থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার সাথে ছিল সন্ত্রাসী কানা আলতাফ, যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাসী ওমর শরীফ, আজাদ, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত মো. মোর্শেদসহ আরও কয়েকজন সহযোগী। যারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ডাকাতির প্রস্তুতি নেয়ার খবর পেয়ে পুলিশ এই অভিযান চালায়।

এদিকে সন্ত্রাসী কানা আলতাফের লাশ উদ্ধারের খবরে পুরো মরিয়মনগর ইউনিয়নসহ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি নেমে আসে। তার নির্যাতনের শিকার সাধারণ মানুষ একে অপরের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।